ত্রুটি সম্পর্কিত বার্তা

Deprecated function: The each() function is deprecated. This message will be suppressed on further calls in menu_set_active_trail() (line 2394 of /home/kanthosh/public_html/includes/menu.inc).

কণ্ঠশীলনের নাটক "যাদুর লাটিম"-এর দ্বাদশ মঞ্চায়ন

কণ্ঠশীলন প্রযোজিত মঞ্চনাটক “যাদুর লাটিম”-এর দশম মঞ্চায়ন হবে আগামী ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ / ৮ই আশ্বিন ১৪২৫ রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় নাট্যশালা (মূল হল), বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, ঢাকায়। নোবেল বিজয়ী মিশরীয় ঔপন্যাসিক নাগিব মাহফুজের “অ্যারাবিয়ান নাইট্স অ্যান্ড ডে’জ” অবলম্বনে ”যাদুর লাটিম” নাটকটির নাট্যরূপ দিয়েছেন রাফিক হারিরি। নির্দেশনার দায়িত্ব পালন করেছেন কণ্ঠশীলন অধ্যক্ষ মীর বরকত। প্রায় দেড় ঘন্টার নাটকটির মঞ্চসজ্জা, পোশাক ও আলোক পরিকল্পনায় আছেন ফয়েজ জহির, সঙ্গীত পরিকল্পনা ও সুর সংযোজন করেছেন শিশির রহমান, কোরিওগ্রাফী করেছেন আমিনুল আশরাফ। নাটকটির দু’টি গান লিখেছেন রাফিক হারিরি ও মীর বরকত।নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে রূপদান করেছেন রইস উল ইসলাম, মোস্তফা কামাল, একেএম শহীদুল্লাহ কায়সার, সোহেল রানা, সালাম খোকন, অনন্যা গোস্বামী, জেএম মারুফ সিদ্দিকী, নিবিড় রহমান, অনুপমা আলম, মো. আব্দুল কাইয়ুম, লায়লা নজরুল, রুবেল মজুমদার, নিশরাত জেবিন নিশি, শেখ সাজ্জাদুর রহমান, মিজানুর রহমান চৌধুরী মিশন, তাসিন ইসলাম ও অনুপ্রভা মণ্ডল।

“যাদুর লাটিম” এক কল্পিত নগরের ইফরিদ-কুফরিদ নামের দুষ্ট জ্বিনের গল্প হলেও সমসাময়িক বিশ্বের বাস্তব অবস্থার বাইরে কিছু নয়। মানুষের শিরায় উপশিরায় ঘুরে বেড়ানো ইফরিদ আর কুফরিদ মানুষের মনে সন্দেহ ও অবিশ্বাসের বিষ ঢুকিয়ে এবং ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে নগর জুড়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে থাকে। নগরের গভর্নর কালো যাদুমন্ত্র দিয়ে জ্বিন ইফরিদকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে নিজস্বার্থে ব্যবহার করে। একই সাথে তার অনুগত পুলিশপ্রধানকে দিয়ে তার হীনকর্ম বাস্তবায়ন করে। অন্যদিকে জ্বিন কুফরিদ তিনহাজার বছর বন্দি থাকে যাদুর পাত্রে। পুলিশপ্রধান গামাসের সহায়তায় কুফরিদ বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে দেখে তার দুষ্ট বন্ধু ইফরিদ গভর্নরের হাতে বন্দি। তার মুক্ত হওয়ার একমাত্র উপায় গভর্নরের অপঘাতে মৃত্যু। শুরু হয় দুই জ্বিনের চক্রান্ত। সেই চক্রান্তের বলি হয় ব্যবসায়ী সানান, কোটিপতি কারাম, হামদানি, সালিম, তরুণী। একসময় গভর্নর ও পুলিশপ্রধানের দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে। ইফরিদ কালো যাদু থেকে মুক্ত হয়ে কুফরিদকে নিয়ে আরো বেপরোয়াভাবে নগরে অনাসৃষ্টি করতে থাকে। পুলিশপ্রধান মানুষ হয়েও কালো যাদু থেকে মুক্ত হতে না পেরে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। কিন্তু শেষরক্ষা হয় না। ইফরিদ-কুফরিদরা বহাল তবিয়তে থেকে যায় সমাজে, রাষ্ট্রে, পৃথিবীতে। কখনও কখনও দুষ্ট গভর্নরদের হাতের পুতুল হয়ে অদৃশ্য সব অপকর্ম ও অনাসৃষ্টি করে বেড়ায় কালো পোশাকে রাতের অন্ধকারে। তারা থেকে যায় সবসময় ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

অদ্ভুতুরে কাহিনির সাথে বর্তমান বিশ্বের প্রবহমান ঘটনাবলির সাযুজ্য ফুটিয়ে তুলতে ফ্যান্টাসি ও রিয়েলিস্টিকের মিশ্রণে ঢেলে সাজানো হয়েছে পুরো নাটকটি। এক ঝাঁক তরুণ নাট্যকর্মীর প্রয়াসটি সার্থক করতে নির্দেশক মীর বরকতসহ সকল কলাকুশলী অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন।